চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় বাঘিনী শুভ্রার ঘরে প্রথম সন্তান, বেড়ে উঠছে ‘মানুষের মমতায়’

 বশির আলমামুন |  শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২১ |  ১২:৪১ অপরাহ্ণ
       

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় বিরল প্রজাতির সাদা বাঘ ‘শুভ্রা’র প্রথম বারের মত প্রসব করা বাচ্চাটিকে দুধ দিচ্ছে না বাঘিনী। এতে চিন্তায় পড়ে যান চিডিয়াখানা কতৃপক্ষ। বাঘের স্বভাব অনুযায়ী, শুরু থেকেই মায়ের আদর বঞ্চিত শাবকটি। বাঘিনী এ অবস্থায় শাবকটিকে নিজের হেফাজতে রেখে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন চিড়িয়াখানার ভারপ্রাপ্ত কিউরেটর ডা.শাহাদাত হোসেন শুভ। ২১ দিন আগে গত ২৬ আগস্ট ভোরে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় রাজ-শুভ্রা দম্পতির ঘরে জন্ম নেয় শাবকটি। শুভ্রার হিং¯্র আচরণের কারণে রাতেই মায়ের কাছ থেকে আলাদা করে শাবটিকে নিজের হেফাজতে নেন শুভ।
এর আগে, গত বছরের ১৪ নভেম্বর চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় বাঘিনী জয়া’র ঘরে জন্ম নিয়েছিল তিন শাবক। পরদিন একটি শাবক এবং ১৮ নভেম্বর আরও একটি শাবক মারা যায়। মুমূর্ষু অবস্থায় থাকা আরেকটির প্রাণ রক্ষায় নিজের হেফাজতে নেন ডা. শুভ। ওই সময় ৪৬তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে জো বাইডেনের জয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে এসেছিল। ডা. শুভ তখন বাঘের ছানাটির নাম রাখেন ‘বাইডেন’। চিড়িয়াখানার কর্মীরা নিজেরাই দুধ খাইয়ে, নিবিড় পরিচর্যা করে, পেলে-পুষে বাঘের ছানাটিকে বাঁচিয়ে তোলেন। সাড়ে পাঁচ মাস পর ২১ এপ্রিল ‘বাইডেন’ নামের বাঘের ছানাটিকে খাঁচায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
বাইডেনের মতো শুভ্রার সন্তানকেও নিবিড় মমতায় বাঁচিয়ে তোলার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়ে ডা. শুভ বলেন, ‘অনেক সময় সন্তান জন্ম দেওয়ার পর মা বাঘের আচরণগত কিছু পরিবর্তন আসে। সে তখন নিজের সন্তানকেই শক্রুজ্ঞান করতে শুরু করে। বাইডেনের জন্মের পর জয়ার ক্ষেত্রে আমরা যে আচরণ পেয়েছি শুভ্রার ক্ষেত্রেও একই আচরণ পেয়েছি। এ কারণে আমরা শুভ্রার শাবকটিকে অন্তত ছয়মাস প্রতিপালন করব। এরপর আবার চিড়িয়াখানায় ছেড়ে দেব।’
তিনি বলেন ‘আমরা দিনে ছয় বার ছাগলের দুধ দিচ্ছি শাবকটিকে। কিন্তু আলাদা করে দুধ দিয়ে বাঁচানো খুবই কঠিন কাজ। মায়ের মমতার জন্য প্রায়ই বাচ্চাটি চিৎকার করছে। আমরা নানাভাবে বাঘ আকৃতির খেলনা বানিয়ে ওর সামনে রেখে খেলাধূলায় সময় পার করার চেষ্টা করছি। বাইডেনকে পরিচর্যা করতে গিয়ে আমাদের চিড়িয়াখানার কর্মীদের কিছু অভিজ্ঞতা হয়েছে। আশা করি সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আমরা এই বাচ্চাটিকেও বড় করে তুলতে পারব।’
ডা. শুভ জানিয়েছেন, মেয়ে বাচ্চাটি ডোরাকাটা। তার মা শুভ্রা বিরল প্রজাতির সাদা বাঘিনী হলেও তার প্রথম শাবকটি সেই বৈশিষ্ট্য পায়নি। এর ওজন প্রায় ২ কেজি। শুভ্রার ঘরের নতুন অতিথিসহ বর্তমানে চট্টগ্রাম চিডিয়াখানায় বাঘের সংখ্যা ১০টি বলে জানান শাহাদাত হোসেন শুভ।