১৩ ও ২৪ ডিসেম্বর সারাদেশে বিক্ষোভ

সরকারের পদত্যাগসহ ১০ দফা দাবি বিএনপির

 ঢাকা ব্যুরো |  শনিবার, ডিসেম্বর ১০, ২০২২ |  ৭:২৮ অপরাহ্ণ
       

আগামী ১৩ ও ২৪ ডিসেম্বর সারা দেশের মহানগর ও উপজেলা শহরে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি।শনিবার(১০ডিসেম্বর) রাজধানীর কমলাপুরের গোলাপবাগ মাঠে ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, আজকের সমাবেশে বাধা দেওয়া এবং নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে আগামী ১৩ ডিসেম্বর সারা দেশের মহানগরী ও জেলায় জেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি।

একই সঙ্গে সমাবেশে সরকার পতনের দশ দফা দাবি বাস্তবায়নে আগামী ২৪ ডিসেম্বর সারা দেশে মহানগর ও জেলা শহরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানান বিএনপির এই নেতা।
এসব কর্মসূচিতে বিএনপির সঙ্গে আন্দোলনে যোগদানকারী দলগুলোও অংশগ্রহণ করবে বলে জানান তিনি।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, বর্তমান অবৈধ সরকারের আর এক মুহূর্ত ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার নেই। ১০ দফা দাবির মাধ্যমে যুগপৎ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই সরকারের পতন ঘটানো হবে।

তিনি বলেন, এই সমাবেশ বন্ধ করার জন্য এমন কোনো ষড়যন্ত্র নেই যা সরকার করেনি। আবারো প্রমাণিত হলো, জনগণ কোনো বাধা মানে না।

তিনি বলেন, সমাবেশকে কেন্দ্র করে শত শত নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সরকার জনগণের আন্দোলনকে ভয় পায়। কারণ তারা ভোট চুরি করে ক্ষমতায় আসে। সেই কারণে যারা জনগণের কথা বলে, গণতন্ত্রের কথা বলে, তাদের ভয় পায়।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, আজ জনগণ রায় দিয়েছে, আপনারা দিনের ভোট রাতে করে আর ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না। জনগণ বিশ্বাস করে না, আপনারা গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে পারবেন।

তিনি বলেন, সরকার টিকে থাকার জন্য বিচারব্যবস্থাকে ন্যক্কারজনকভাবে ব্যবহার করেছে। এর অংশ হিসেবে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে ফরমায়েশি রায়ের মাধ্যমে সাজা দিয়েছেন। তাই এই সরকারকে জনগণ আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না।

বিএনপির এই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, এই সরকারকে যত দ্রুত ক্ষমতায় থেকে নামানো যাবে, দেশের জন্য ততই মঙ্গল। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আহ্বায়ক আমানল্লাহ আমান।

গণসমাবেশে জাতীয় সংসদ বিলুপ্তিসহ ১০ দফা ‘চার্টার অব ডিমান্ড’ করা হয়েছে। এ গুলো হলো,
১. বর্তমান জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত করে ক্ষমতাসীন সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে।

২. ১৯৯৬ সালে সংবিধানে সংযোজিত ধারা ৫৮-খ, গ ও ঘ’-এর আলোকে একটি দল নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকার,অন্তর্বতীকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন।

৩. নির্বাচনকালীন দল নিরপেক্ষ সরকার,অন্তর্বতীকালীন তত্ত্ববধায়ক সরকার বর্তমান অবৈধ নির্বাচন কমিশন বাতিল করে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন, উক্ত নির্বাচন কমিশন অবাধ নির্বাচনের অনিবার্য পূর্বশর্ত হিসাবে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে আরপিও সংশোধন, ইভিএম পদ্ধতি বাতিল ও পেপার ব্যালটের মাধ্যমে ভোটের ব্যবস্থা করা এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার বাতিল করা।

৪. খালেদা জিয়াসহ সব বিরোধীদলীয় নেতাকর্মী, সাংবাদিক এবং আলেমদের সাজা বাতিল, সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও রাজনৈতিক কারাবন্দিদের অনতিবিলম্বে মুক্তি, দেশে সভা, সমাবেশ ও মত প্রকাশে কোনো বাধা সৃষ্টি না করা, সব দলকে স্বাধীনভাবে গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে প্রশাসন ও সরকারি দলের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা বাধা সৃষ্টি না করা, স্বৈরাচারী কায়দায় বিরোধী কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করার লক্ষ্যে নতুন কোনো মামলা ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার না করা।

৫. ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ এবং বিশেষ ক্ষমতা আইন-১৯৭৪সহ মৌলিক মানবাধিকার হরণকারী সব কালা-কানুন বাতিল করা।

৬. বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গ্যাস ও পানিসহ জনসেবা খাতের মূল্যবৃদ্ধির গণবিরোধী সরকারি সিদ্ধান্ত বাতিল।

৭. নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আনা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারকে সিন্ডিকেট মুক্ত করা।

৮. গত ১৫ বছর ধরে বিদেশে অর্থ পাচার, ব্যাংকিং ও আর্থিক খাত, বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাত ও শেয়ার বাজারসহ রাষ্ট্রীয় সব ক্ষেত্রে সংঘটিত দুর্নীতি চিহ্নিত করতে একটি কমিশন গঠন/দুর্নীতি চিহ্নিত করে অতি দ্রুত যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ।

৯. গত ১৫ বছরে গুমের শিকার সব নাগরিককে উদ্ধার এবং বিচারবহির্ভূত হত্যা ও রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনার দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা করে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর, উপাসনালয় ভাঙচুর এবং সম্পত্তি দখলের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা করা।

১০. আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন ও বিচার বিভাগকে সরকারি হস্তক্ষেপ পরিহার করে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া।

বিএনপির এ সমাবেশ নিয়ে সরকারের সাথে বহু নাটকীয়তার পর রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের কাছে গোলাপবাগ মাঠে ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ করার অনুমতি পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি।

শনিবার গণসমাবেশ বেলা ১১টার আগেই শুরু থাকলেও গতকাল (শুক্রবার) বিকেল থেকেই সমাবেশস্থলে জড়ো হতে শুরু করেন দলটির নেতাকর্মীরা। আজ শনিবার ভোর হতেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকার নেতাকর্মীরা যোগ দিয়েছেন সমাবেশে।

সমাবেশের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিল প্রায় ৩৪ হাজার আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্য। কোন রকমের বিশৃংখলা ছাড়াই সমাবেশ সম্পন্ন করা হয়েছে।

ইমা