দেওয়ানহাট-আগ্রাবাদ দেড় কিলোমিটার সড়কে মানুষের যত ভোগান্তি

 নিজস্ব প্রতিবেদক |  মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২১ |  ১২:৫৩ অপরাহ্ণ
       

নগরীর দেওয়ানহাট থেকে আগ্রাবাদ মোড় পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়ক মানুষের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মেগা প্রকল্প এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজে ক্ষতিগ্রস্ত এই সড়কে যেন চলতেই চায় না যানবাহন। খানা-খন্দক ও বড় বড় গর্তেভরা দেড় কিলোমিটার সড়ক পাড়ি দিতে লেগে যায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। অথচ আগে এই সড়ক পাড়ি দিতে সময় লাগতো মাত্র ৮ থেকে ১০ মিনিট। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কে যাতায়াত করতে গিয়ে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকার কর্মজীবীদের।
নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, উন্নয়নকাজের জনদুর্ভোগ কমানোর পরিকল্পনা না থাকায় এই ভোগান্তি। সকাল ৯টা ২০ মিনিটে দেওয়ান হাট থেকে ছেড়ে আসা সিটি সার্ভিসের বাসটি আগ্রাবাদ মোড়ে পৌঁছায় তখন সময় প্রায় ১০টা ছুঁইছুঁই। অথচ দেড় কিলোমিটার এ সড়ক পার হতে সময় লাগার কথা ৮ থেকে ১০ মিনিট। এই পথ পাড়ি দিতে প্রতিদিন হাজার হাজার কর্মজীবীকে সময় অপচয় করতে হয় কয়েক ঘণ্টা।
একজন পথচারী বলেন, এই যানজটটা খুব কষ্টকর। সহ্য হয় না। মন চায়, গাড়ি থেকে নেমে যাই। অপর এক পথচারী বলেন, যানজটের কারণে আমাদের অফিসে যেতে অনেক সময় লাগে। কোনো কোনো দিন এক ঘণ্টার জায়গায় দুই ঘণ্টা লেগে যায়। এক বাসচালক বলেন, যানজটের কারণে আমারা সময় মেইনটেন করতে পারি না। যাত্রীরা চিল্লাচিল্লি করে। গাড়ি রাস্তার গর্তে পড়ে যায়। এক গাড়ির সঙ্গে অন্য গাড়ি আটকে যায়।
আরেক চালক বলেন, দেওয়ানহাট থেকে আগ্রাবাদ আসতেই এক ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে। এভাবে গাড়ি চালানো খুবই কষ্ট।
দীর্ঘদিন ধরে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ চলায় দু’পাশে রাস্তা যানবাহন চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে। বিপজ্জনক ভাঙা রাস্তায় ধীরগতির কারণে সৃষ্টি হয় যানজটের। এতে হিমশিম খেতে হয় ট্রাফিক পুলিশকেও।
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তায় যান চলাচলে দুর্ভোগ কমাতে পরামর্শ দিয়ে নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার জানান, নির্মাণকাজে যে গর্তগুলো হয়, সেগুলো রাতের বেলা যখন যানবাহনে চাপ কম থাকে সে সময় রোলার চালিয়ে স্মুথ করে দেওয়া হয়, যে পানিগুলো পড়ে সেগুলো যদি ড্রেনের মাধ্যমে অপসারণ করা হয় তাহলে জনদুর্ভোগ কিছুটা হলেও কমবে।
২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হওয়া এ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ২০২১ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয় ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত।