চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের অভিযান

১১ মাসে সেগুনসহ দুই কোটি টাকার মূল্যবান কাঠ জব্দ

 নিজস্ব প্রতিবেদক |  রবিবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২১ |  ১১:০২ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের অভিযান
       

বনজদ্রব্যের অবৈধ পাচার প্রতিরোধে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগ সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা সহ বিশেষ নজরদারী শুরু করেছে।

২০২০ সালের অক্টোবর থেকে ২০২১ সালের আগষ্ট মাস পর্যন্ত ১১ মাসের অভিযানে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা এবং নগরীর একাধিক সড়ক ও নদী পথে পাচার কালে সেগুন সহ বিভিন্ন প্রজাতির চোরাই বনজদ্রব্য জব্দ করেছে বন বিভাগ।

জব্দকৃত এসব বনজদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির ২০ হাজার ঘনফুট মুল্যবান কাঠ, ২৬ শত ঘনফুট জ্বালানী কাঠ, ১৭৮ টি বল্লী, ২৫ টি দরজার পাল্লা, ১৪৫ রকমের আসবাব পত্র ও ২২৪০ টি বাঁশ। এসময় পাচারে বব্যহার করা ১৭ টি কাভার্ড ভ্যান, ১৮ টি ট্রাক, ১০ টি পিকআপ, ৭ টি জীপ, ১টি বাস. ২ টি টেম্পুসহ ৫৬ টি যান বাহন আটক করা হয়েছে। তাছাড়া এসময়ে অভিযান চালিয়ে উত্তর বন বিভাগের বিভিন্ন রেঞ্জ এলাকায় স্থাপিত ৫০ টি অবৈধ করাত কল উচ্ছেদ করা করেছে। জব্দকৃত কাঠের আনুমানিক মুল্য দুই কোটি টাকা বলে জানান বন বিভাগ।

বনবিভাগ জানায় চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তার দিক নির্দেশনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়ক, খাগড়াছড়ি-রামগড়-চট্টগ্রাম সড়ক, কর্নফুলী নদী ও সেতু সড়ক, কালুর ঘাট সেতু সড়ক, সহ এ বনবিভাগের বিভিন্ন রেঞ্জের সড়ক পথে অবৈধ ভাবে পাচারের সময় বনবিভাগ অভিযান চালিয়ে গাড়িসহ এসব চোরাই কাঠ জব্দ করেন।

অভিযানে নেতৃত্বদেন শহর রেঞ্জের বিশেষ টহলদল, ধুমঘাট ফরেস্ট চেক স্টেশন, করের হাট, হাটহাজারী, ফৌজদারহাট, রাউজান ঢালা বিট কাম চেক স্টেশন ও স্পর্শকাতর এলাকায় র‌্যাব-৭, সহ যৌথ টাস্কফোর্স।
শহর রেঞ্জ কর্মকর্তা নাজমুল হাসান মাসুদ জানান এসব চোরাই কাঠ আটকের ঘটনায় ২০৩ টি বন মামলা দায়ের করা হয়েছে। ২৮ জন আসামীকে চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন পাচারকারীরা ত্রিপলে ঢাকা ট্রাক, মিনি ট্রাক, বালুর নীচে, ইট ও তরকারীর গাড়িতে, কাভার্ড ভ্যানে অভিনব কায়দায় এসব কাঠ পাচারের চেষ্টা করছিল। তিনি বলেন পাচার প্রতিরোধে ভবিষ্যতেও সাঁড়াশি এবং জোরদার অভিযান অব্যাহত থাকবে।