কর্ণফুলী টানেলের টাকা নিয়ে গড়িমসি

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

 নিজস্ব প্রতিবেদক |  মঙ্গলবার, নভেম্বর ১৫, ২০২২ |  ৮:৩৩ অপরাহ্ণ
       

চট্টগ্রাম মহানগরের পতেঙ্গায় কর্ণফুলী টানেলের টাকা নিয়ে গড়িমসি করার অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসনের এক সহকারী কমিশনারসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল দেবের আদালতে মামলাটি করেন নগরের হালিশহর এলাকার মো. হেমায়েত হোসেন। আদালতে বাদীর বক্তব্য রেকর্ড করে মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার আসামিরা হলেন, সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (ভূমি অধিগ্রহণ শাখা) এহসান মুরাদ, ভূমি সার্ভেয়ার মোহাম্মদ আব্দুল মুমিন, সার্ভেয়ার মোহাম্মদ ইমান হোসেন গাজী, মুক্তার হোসেন, আবু কাউসার সোহেল এবং অফিস সহকারী বেলায়েত হোসেন বুলু।

মামলার বাদী মোহাম্মদ হেমায়েত হোসেন বলেন, আমার দাদার দুই সংসার। প্রথমে সংসারে আমার বাবারা দুই ভাই, দুই বোন। দ্বিতীয় সংসারে চার ছেলে। অধিগ্রহণকৃত জায়গাটি আমার দাদার দ্বিতীয় ঘরের চার ছেলের নামেই মূল বিএস ছিল। তবে জায়গা আমার দাদার নামেই ছিল। এট সংশোধনের জন্য আমি সিভিল মামলা করেছি। হাইকোর্ট থেকে নিষেধাজ্ঞা অর্ডারও এনেছি। কিন্তু এরপরও তাদের (চাচাদের) টাকা দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ওই জায়গাটিতে আমার দাদার সকল সন্তানদের অর্থাৎ দ্বিতীয় ঘরের চাচাদের মাধ্যমে আমি এবং এ মামলার ২ নম্বর সাক্ষী ফখরুল ইসলামের (২ নম্বর সাক্ষী) মধ্যে চুক্তিনামা হয়। পরে আমরা সেই জায়গায় ৬ বছরে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা খরচ করেছি।

এছাড়া চুক্তিতে অধিগ্রহণকৃত ভূমির ক্ষতিপূরণের টাকার অর্ধেক আমরা পাওয়ার কথা। কিন্তু তারা সেটা দিতে অস্বীকার করে। এ নিয়ে আমি ২০২১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর প্রথমে এল এ শাখায় আবেদন করেছিলাম। এরপরও কোনো উত্তর জানায়নি। এরপর আবার এ বছরের ৩ নভেম্বর আবার আবেদন করেছি, তখন রিসিভ কপি দিয়েছে। কিন্তু সার্ভেয়ার তা গ্রহণ করছে না।

হেমায়েত হোসেন বলেন, সর্বশেষ গত ১০ নভেম্বর দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে এল এ শাখায় এসে দাখিলকৃত আবেদন এবং ভূমির ক্ষতিপূরণ বাবদ দেওয়া অর্থের হালনাগাদের অবস্থা জানতে চাইলে আসামিরা দুর্ব্যবহার করেন। একইসঙ্গে তাদের সঙ্গে হিসেবে বসলে তারা আমাকে ক্ষতিপূরণের টাকা পেতে সহযোগিতা করবেন বলে জানান। যদি তাদের কথায় রাজি না হলে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেন। পরে আমাকে রুম থেকে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়।