সরকারি-বেসরকারি স্কুলের ভর্তির আবেদন শুরু কাল

 নিজস্ব প্রতিবেদক |  মঙ্গলবার, নভেম্বর ১৫, ২০২২ |  ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ
       

সরকারি ও বেসরকারি স্কুল ভর্তিতে অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া কাল (১৬ নভেম্বর) থেকে শুরু হচ্ছে। আগামীকাল বুধবার বেলা ১১টা থেকে স্কুল ভর্তি সংক্রান্ত ওয়েবসাইট (http://www.gsa.teletalk.com.bd) -এ গিয়ে আবেদন ফরম পূরণ করতে পারবে ভর্তিচ্ছুরা। আগামী ৬ ডিসেম্বর বিকেল ৫টা পর্যন্ত আবেদনের সুযোগ থাকছে।

স্কুল ভর্তিতে অনলাইন আবেদন গ্রহণ ও লটারির সময়সূচি চূড়ান্ত করে ভর্তি নির্দেশনা জারি করেছে মাউশি (মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর)। গতকাল (১৪ নভেম্বর) দুটি পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। মাউশির উপপরিচালক (মাধ্যমিক) মোহাম্মদ আজিজ উদ্দিনের স্বাক্ষরে সরকারি স্কুলের এবং মাউশির পরিচালক (মাধ্যমিক) মো. বেলাল হোসাইনের স্বাক্ষরে বেসরকারি স্কুলের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি জারির

তথ্য নিশ্চিত করে মাউশির উপপরিচালক (মাধ্যমিক) মোহাম্মদ আজিজ উদ্দিন বলেন, মাউশির পক্ষ থেকে স্কুল ভর্তি কার্যক্রমের একটি খসড়া সময়সূচি প্রস্তাব করে শিক্ষা মন্ত্রাণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। মন্ত্রণালয় ওই প্রস্তাবনা অনুমোদন দিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ায় স্কুল ভর্তি কার্যক্রমের সময়সূচি চূড়ান্ত করে আমরা মাউশির পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছি।

মাউশির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সরকারি-বেসরকারি স্কুলগুলোতে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন ১৬ নভেম্বর থেকে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। আবেদন গ্রহণ শেষে সরকারি স্কুলে ভর্তির লটারি ১০ ডিসেম্বর এবং বেসরকারি স্কুলে ভর্তির লটারি অনুষ্ঠিত হবে ১৩ ডিসেম্বর। অনলাইনে লটারির মাধ্যমেই ভর্তির জন্য শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।

আবেদন ফি :

এবারও আবেদন ফি ১১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কেবল টেলিটকের মাধ্যমে অনলাইনে এ ফি দেয়া যাবে।
সর্বোচ্চ আবেদন :
মাউশির নির্দেশনা অনুযায়ী একজন শিক্ষার্র্থী সর্বোচ্চ ৫টি পছন্দক্রম দিয়ে আবেদন করার সুযোগ পাবে। তবে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একটি শ্রেণির দুটি শিফটে (মর্নিং ও ডে শিফট) আবেদন করলে সেক্ষেত্রে দুটি পছন্দক্রম বিবেচনা করা হবে। সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে ভর্তিতে আলাদাভাবে আবেদন করতে হবে।

সরকারি-বেসরকারি উভয় স্কুলের ক্ষেত্রেই আবেদন ফি ও পছন্দক্রম একই। অর্থাৎ সরকারি স্কুলে ভর্তিতে এক আবেদনে সর্বোচ্চ ৫টি পছন্দক্রম এবং বেসরকারি স্কুলের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ ৫টি পছন্দক্রম দিয়ে আবেদন করা যাবে। আর উভয় ক্ষেত্রে আবেদন ফি দিতে হবে ১১০ টাকা করে।

সরকারি স্কুলে আসন সংখ্যা :

এতদিন মহানগরে সরকারি স্কুলের সংখ্যা ৯টি থাকলেও ২০২০ সাল থেকে চট্টগ্রাম সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজও এ তালিকায় যুক্ত হয়েছে। সে সুবাদে নগরীতে সরকারি স্কুলের সংখ্যা এখন দশটি। দশটি সরকারি স্কুলে ৫ম থেকে ৯ম শ্রেণিতে মোট ৩ হাজার ৮৬০টি (প্রায় ৪ হাজার) শূন্য আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয় গতবার। এবছর এখনো পর্যন্ত দশটি স্কুলের শূন্য আসনের হালনাগাদ তথ্য পায়নি জেলা প্রশাসন। আজ-কালের মধ্যেই শূন্য আসনের তথ্য চূড়ান্ত হতে পারে। অবশ্য এবারও গতবছরের শূন্য আসনের সমান সংখ্যক বা এর কিছুটা কম-বেশি আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। হিসেবে এবার এই দশ সরকারি স্কুলে শূন্য আসনের সংখ্যা প্রায় ৪ হাজারে দাঁড়াতে পারে।

গতবছর নগরীর দশ সরকারি স্কুলের ৫ম শ্রেণিতে ১ হাজার ৯১০, ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ৭৩০, ৭ম শ্রেণিতে ১০, অষ্টমে ২৪৮ এবং নবম শ্রেণিতে ৯৬২টি শূন্য আসনে শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সরকারি স্কুলগুলোর মধ্যে রয়েছে কলজিয়েট স্কুল, ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়, নাসিরাবাদ সরকারি (বালক) উচ্চ বিদ্যালয়, চট্টগ্রাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি সিটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, চট্টগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, হাজী মুহাম্মদ মহসিন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, বাকলিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

বেসরকারি স্কুল ভর্তিতেও অনলাইনে আবেদন-লটারি :

এতদিন বেসরকারি স্কুলগুলো নিজেদের মতো করে আলাদাভাবে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতো। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের আলোকে গতবছর (২০২২ শিক্ষাবর্ষ) থেকে জেলা ও মহানগর পর্যায়ের বেসরকারি স্কুলের ভর্তি কার্যক্রমও অনলাইনের আওতায় আনা হয়েছে। সরকারি স্কুলের আদলে মাউশির অধীনেই বেসরকারি স্কুলের এ ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে। এ তথ্য নিশ্চিত করে মাউশির উপ-পরিচালক (মাধ্যমিক) মোহাম্মদ আজিজ উদ্দিন বলেন, বেসরকারি স্কুলগুলোর ভর্তি কার্যক্রম এবার দ্বিতীয়বারের মতো মাউশির অধীনে অনলাইনে সম্পন্ন হচ্ছে। এখনো শতভাগ প্রতিষ্ঠানকে এর আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। তবে আগামীতে সব বেসরকারি স্কুলকে বাধ্যতামূলকভাবে এ অনলাইন ভর্তি কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে এবং কেন্দ্রীয়ভাবে মাউশির অধীনে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। মাউশির অধীনে অনলাইন ভর্তি কার্যক্রমে যুক্ত হওয়া কোনো বেসরকারি স্কুল আলাদা করে ভর্তি ফরম বিক্রি করতে পারবেনা বলেও জানিয়েছেন মাউশির উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আজিজ উদ্দিন।

প্রসঙ্গত, সামপ্রতিক বছরগুলোতে লটারির মাধ্যমে কেবল প্রথম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হতো। কিন্তু করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে ২০২১ শিক্ষাবর্ষের সব শ্রেণিতেই লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। গতবছরও (২০২২ শিক্ষাবর্ষে) এ ধারবাহিকতা বজায় ছিল। এবারও (২০২৩ শিক্ষাবর্ষে) লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তির ধারা অব্যাহত থাকছে। সরকারি স্কুলের পাশাপাশি বেসরকারি স্কুলেও একই প্রক্রিয়ায় (লটারির মাধ্যমে) শিক্ষার্থী ভর্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই সিদ্ধান্তের আলোকে সারা দেশে কেন্দ্রীয়ভাবে ভর্তির লটারি আয়োজন করা হবে। টেলিটকের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন, লটারি ও ফল প্রকাশ করবে মাউশি।