সন্দ্বীপে ব্রি-৪৮ ধানের বাম্পার ফলন ,অনাবাদী জমিকে আবাদের আওতায় আনতে পেরে কৃষকের মুখে হাসি

 বাদল রায় স্বাধীন |  মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ৭, ২০২১ |  ৯:৪০ অপরাহ্ণ
       

সন্দ্বীপে আউশ বা ব্রি-৪৮ ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে এবার।মুছাপুর ৭ নং ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায় ফসল ঘরে তোলায় ব্যস্ত কৃষক কৃষানী। কেউ ধান কাটছেন,কেউ ধান মাড়াই,কেউ ধান শুকানো কেউ শুকনো ঘাস রোদে দিতে ব্যস্ত। কৃষক বোরোধান এবং রোপা আমন ধানের মাঝে একটি বাড়তি ফসল পাচ্ছে গত তিন বছর ধরে। এই সব জমি সাধারনত অনাবাদি অবস্থায় পড়ে থাকতো ৪ বছর পুর্বেও।কারন সে জমি গুলো ছিলো ডোবা প্রকৃতির। তাই অনাবাদী রেখে দিতেন তারা । বর্তমানে আর সে জমি পড়ে থাকছে না। কৃষক পাচ্ছে নতুন পাকা ধান ।
কৃষকদের সাথে আলাপকালে তারা বলেন ২০১৭ সালের পুর্বে এ সমস্ত জমিতে আমরা কোন চাষাবাদ করতামনা।রিকল প্রজেক্ট এসডিআই আমাদের কয়েকজন কৃষককে উন্নত চাষাবাদের উপর প্রশিক্ষন দেওয়ার পর এ সমস্ত জমিতে ব্রি-৪৮ ধানের ভালো ফলন হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলেন । এর পর প্রতি গ্রামে ৪/৫ জন করে কৃষককে কৃষি অফিস থেকে ১০ কেজি করে ধান প্রনোদনা হিসেবে দিয়ে সেগুলোর চাষাবাদের খরচ ও দিয়ে দেন তারা।
শুরুতে যে কয়জন কৃষক চাষ করছিলো তাদের অনেককে টিটকারী করে পন্ডশ্রম হবে বলে হাসি তামাশা করেছে। পরে দেখা যায় সত্যিই ভালো ফলন হয়েছে। তখন পরর্বর্তী বছর আরো ৭/৮ জনকে সেটি প্রনোদনা দেয় এবং পুর্বের চাষ করা কৃষকদের থেকে অনেকে কিনে নিয়ে সে ধান চাষাবাদ করেন। দ্বিতীয়বারও বাম্পার ফলনের পর এবার প্রায় শতাধীক কৃষক কয়েক একর জমিতে সে ধানের চাষ করেছেন। ফলনও হয়েছে বাম্পার। প্রতি কড়ায় ৩/৪ আড়ি ধান পাওয়া যাচ্ছে। এতে তারা খুব খুশি।
তবে এখন সে বীজের মিশ্রন ঘটে গেছে তাই আগামী বার সে বীজ থেকে চাষ করলে ভালো ফলন হবেনা বলে মন্তব্য করেন তারা। তাই নতুন করে সে বীজ আবারো দেওয়ার অনুরোধ জানান তারা।
অনাবাদী জমি গুলোকে আবাদের আওতায় আনতে পেরে তারা রিকল প্রজেক্ট এসডিআই’র প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
অন্যদিকে এবছর পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়াতে ব্রি-৪৮ ধানের চাষে কৃষকের বাড়তি কোন সেচ লাগেনি। এবং এবছর ফলন ভালো এবং ধানের উচ্চ মূল্যের কারনে ধান বিক্রি করে কৃষক ব্যাপক লাভবান হবে বলে ধারনা তাদের ।