বিদ্যুতের বরাদ্দ সংকটে ভুগছে চট্টগ্রাম : ইন্ডাষ্ট্রির চাপে চ্যাপ্টা রেসিডেন্সিয়াল

 উজ্জ্বল দত্ত |  শনিবার, নভেম্বর ৫, ২০২২ |  ৪:৪৪ অপরাহ্ণ
       

জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ না পাওয়ায় চট্টগ্রামে লোড শেডিংয়ের পরিমাণ দিন দিন অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। জাতীয় যে পরিমাণ বিদ্যুৎ আসে তাঁর অধিকাংশই সরবরাহ হচ্ছে শিল্প কারখানায়। ফলে আবাসিক  এলাকায় চাহিদার তুলনায় নামমাত্র বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অনুযোগ উঠেছে। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত আর রাত ১২ টার থেকে ভোর পর্যন্ত নিয়মিত বিরতি দিয়ে লোডশেডিং করা হচ্ছে । এমন অবস্থায় অসহনীয় বিদ্যুৎ বিভ্রাটে নাকাল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে নগরে। চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে নগরবাসীকে।

এদিকে আগামীকাল রোববার থেকে শুরু হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা। নানামুখী উৎপাদন,ব্যবসা ও বাণিজ্য খাতের পাশাপাশি অসহনীয় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ধকল গিয়ে পড়ছে পরীক্ষার্থীদের উপরও।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চট্টগ্রামে দৈনিক যে বিদ্যুতের চাহিদা তার চেয়ে জাতীয় গ্রিড থেকে ৪০০ থেকে ৬০০ মেগাওয়াট কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এতে করে চাহিদার বিপরীতে দৈনিক প্রায় ৩০০ মেগাওয়াটের লোডশেডিং চলছে চট্টগ্রামে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্যানুযায়ী, চট্টগ্রামে দৈনিক চাহিদা গড়ে ১৪’শ মেগাওয়াট থাকলেও ঘাটতি থাকে ৩০০ থেকে ৪০০ মেগাওয়াট। কখনো কখনো তা দাঁড়ায় ৪০০ থেকে ৬০০ মেগাওয়াটে। চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগে ৪৫০টি ফিডারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়ে থাকে। এমন অবস্থায় পরিকল্পনা মাফিক এলাকা ভিত্তিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নেটওয়ার্ক বজায় রাখতে হিমশিম খাচ্ছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রাম বিতরণ অঞ্চল।

পিডিবি‘র কর্মকর্তারা বলছেন, গ্যাস সংকট ও জ্বলানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে না।   তেল ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা যাচ্ছে না। আমদানি নির্ভর গ্যাসের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন বর্তমান সময়ে নানামুখী প্রতিবন্ধকতায় পড়েছে।

পিডিবি চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী এম রেজাউল করিম বলেন, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা গড়ে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। কিন্তু বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে ৭৫০ থেকে সাড়ে ৮০০ মেগাওয়াট।

আবাসিক এলাকায় নামমাত্র বিদ্যুৎ সরবরাহ ও নাগরিক ভোগান্তির বিষয়ে তিনি বলেন, জাতীয় গ্রিডের বরাদ্দের উপর নির্ভর করে আমাদেরকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হয়। বরাদ্দ চেঞ্জ হলে শেডও চেঞ্জ হয়ে যায়। চট্টগ্রাম শিল্প কারখানা অধ্যুষিত। এখানে এমনিতেই শেড কম দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তার মূল কারণ শিল্প এলাকা বলে। তবে আমাদের এখন বিদ্যুৎ সাশ্রয় সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি প্রয়োজন। বিদ্যুৎ ব্যবহারে সচেতন হওয়া এখন সময়ের দাবি।