কাপ্তাইযের কর্ণফুলী নদী পথে বাঁশের চালির নীচ দিয়ে পাচার হচ্ছে সেগুন কাঠ

  |  মঙ্গলবার, আগস্ট ৩১, ২০২১ |  ৯:২১ অপরাহ্ণ
       

চট্টগ্রাম ব্যুরো:
রাতের অন্ধকারে অভিনব পদ্ধতিতে কাপ্তাই পয়েন্টের কর্ণফুলী নদী পথে বাঁশের চালির নীচে করে মূল্যবান চোরাই সেগুন কাঠের রদ্দা চট্টগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন স্থানের পাচারের অভিযোগ উঠেছে। রাঙ্গামাটি বন সার্কেলের পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগ ও কাপ্তাই পাল্পউড বনবিভাগের সংরক্ষিত ও অশ্রেণীভুক্ত বণাঞ্চল থেকে সংঘবদ্ধ চোরাকাঠ পাচারকারী চক্র স্থানীয় বন কর্মকর্তা কর্মচারীদের যোগ সাজসে এসব মুল্যবান সেগুন কাঠ দীর্ঘদিন ধরে পাচার করে আসলেও উর্ধ্বতন বনকর্মকতারা নিরব ভুমিকা পালন করছে। এতে সরকার বিপুল পরিমান রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সম্প্রতি বাঁশের চালির নীচে করে রাতের অন্ধকারে কর্ণফুলী নদী পথে কাপ্তাই বনের সেগুন কাঠ পাচারের সময় কাপ্তাই ব্যাটালিয়ন কর্তৃক প্রায় তিন লাখ টাকা মূল্যের সেগুন কাঠ উদ্ধার করা হলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসে। কর্ণফুলী নদী পথে অভিনব পদ্ধতিতে সেগুন কাঠ পাচারের চেষ্টা এবং কাঠ উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কাপ্তাই ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ।
জানাগেছে, বাঁশের চালির মাধ্যমে ভেলার সাহায্যে কর্ণফুলী নদীর কাপ্তাই পয়েন্ট দিয়ে অভিনব পদ্ধতিতে সেগুন কাঠ পাচার করছিল চোরাকাঠ পাচারকারী চক্র। স্থানীয় জনগণের মাধ্যমে গোপন সূত্রে কাঠ পাচারের খবর জানতে পারে কাপ্তাই ব্যাটালিয়ন। খবর পাওয়ার সাথে সাথে কাপ্তাই ব্যাটালিয়নের সদস্যরা কর্ণফুলী নদীতে অভিযান পরিচালনা করে। এসময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে সংঘবদ্ধ কাঠ চোরেরা চোরাই সেগুন কাঠের রদ্দার চালি ফেলে গভীর জঙ্গলের দিকে পালিয়ে যায়। পরে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা নদী থেকে কাঠ গুলি জব্দ করে নিযে আসে। উদ্ধারকৃত কাঠের মূল্য আনুমানিক তিন লাখ টাকা হবে বলে সূত্রে জানা গেছে। এর আগেও বনদস্যুরা সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে কাঠ কেটে বিভিন্ন পদ্ধতিতে পাচারের চেষ্টা চালিয়েছিল বলে জানা গেছে। যদি কাপ্তাই ব্যাটালিয়নের সদস্যরা স্থানীয় জনগণের মাধ্যমে গোপন সূত্রে কাঠ পাচারের খবর আগেই জানতে পারে তাহলে সাথে সাথে অভিযান পরিচালনা করে কাঠ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
স্থানীয়রা জানায় কাপ্তাইয়ের সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে কাঠ চোরেরা দীর্ঘদিন ধরে এসব মূল্যবান সেগুন কাঠ কেটে পাচার করছিল। তারা বনের মূল্যবান সেগুন গাছ কেঠে বনের ভেতরে চিরাই করে রাতের আধাঁরে বাঁশের চালির সাহায্যে কর্ণফুলী নদী পথে চট্টগ্রাম নিয়ে আসে। সেখান থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে গাড়িতে করে নির্বিগ্নে পাচার করছে। এসব কাঠ চোরাই ভাবে পাচারে সহযোগিতা করছে স্থানীয় বনকর্মকর্তা-কর্মচারীরা। নিরব ভুমিকা পালন করছে উর্ধ্বতন বন কর্মকর্তারা।
একটি সূত্র দাবী করছে এসব কাঠ কর্ণফুলী নদী পথে এনে চট্টগ্রামে কালুর ঘাট, বলি হাট ও ফিরিঙ্গি বাজার চোরাই ডিপোতে স্টক করা হয়। পরে সেখান থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাচার করে যাচ্ছেন কাঠ চোরা কারবারীরা।
এ প্রতিবেদক কাপ্তাই পাল্পউড বনবিভাগের ডিএফও মো. আবুল কালামের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করে নিজের পরিচয় দিয়ে এব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি প্রবেদককে প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে বলেন আপনার নাম কি ? বাড়ি কোথায় ? কোন পত্রিকায় কাজ করেন ? অফিস কোথায় ? অন লাইন নাকি পত্রিকা ? অন লাইন হলে কি ধরনের অন লাইন ইত্যাদি প্রশ্ন করতে থাকেন। তিনি এক পর্যায়ে বলেন আমার এলাকায় সেগুন বাগান নেই। বাগান না থাকলে ও যদি নিজের এলাকার উপর দিয়ে চোরাই সেগুন কাঠ পাচার হলে তা জব্দ করার নিয়ম আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি তিনি কোন তথ্য ছাড়া আর আমার কাছে ফোন করবেন না বলে কল কেটে দেন।
এ ব্যাপারে পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিন বন বিভাগের ডিএও রফিউজ্জমান শাহ এর সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান যখনই আমরা নদী পথে বা সড়ক পথে কাঠ পাচারের খবর পাই তখনই সাথে সাথে আমাদের লোকজন পাচার প্রতিরুধে তৎপরতা চালায়। যারকারণে সহজেই কাঠ পাচার কারীরা চোরাই ভাবে কাঠ পাচার করতে পারেনা। বন বিভাগের লোকজন সজাগ থাকে।
এ ব্যাপারে রাঙ্গামাটি বন সার্কেলের বন সংরক্ষক মো. সুবেদার ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে ও কল রিসিভ না করাতে তার বক্তব্য জানা যায়নি।