চট্টগ্রামে অবৈতনিক শ্রমে রয়েছে ২৯ শতাংশ নারী

 বশির আলমামুন |  মঙ্গলবার, আগস্ট ৩১, ২০২১ |  ৮:৫৯ অপরাহ্ণ
       

অবৈতনিক শ্রমের দিক থেকে চট্টগ্রামসহ সারা দেশে নারী-পুরুষের মধ্যে রয়েছে বিরাট ব্যবধান। দেশে কেবল ৪ দশমিক ২ শতাংশ পুরুষের বিপরীতে অবৈতনিক শ্রমের আওতাধীন প্রায় ২৯ দশমিক ১ শতাংশ নারী।
এদিকে দেশে কর্মসংস্থানে নারীর অংশ গ্রহণ ১ শতাংশ বাড়নো সম্ভব হলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাড়বে ০.৩১ শতাংশ। এমনকি জিডিপির তথ্য বিবেচনা করে দেখা যায়, ১০ শতাংশ নারীর কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে দেশের অর্থনীতিতে যোগ করতে পারবে আরো ১১.৩ বিলিয়ন ডলার।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান সানেম এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে রবিবার আয়োজিত ‘বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ভূমিকা’ শীর্ষক ওয়েবিনারে এ তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ পরিচালক চন্দন গোমেজ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও সানেমের গবেষণা পরিচালক ড. সায়মা হক বিদিশা এবং রিসার্চ ইকোনমিস্ট মাহতাব উদ্দিনের যৌথভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ভূমিকার ওপর পরিচালিত গবেষণা প্রবন্ধে এসব হিসাব জানানো হয়েছে।
গবেষণা প্রবন্ধে দেখা যায়, দেশে ১৫-৪৯ বছর বয়সী ৮১.৯ শতাংশ পুরুষ উপার্জন করছে। এ ক্ষেত্রে নারীর অংশ গ্রহণ ৩৪.৪ শতাংশ। কর্মক্ষেত্রে সুবিধা ভোগ করতে পারছেন না ৩৪.৮৪ শতাংশ নারী। ৫২.৫ শতাংশ পুরুষ আত্মকর্মসংস্থান করলেও ৩৯.২ শতাংশ নারী তা পারছেন। ২৯.১ শতাংশ নারী বিনা বেতনে কাজ করছেন। এ ক্ষেত্রে পুরুষের অংশ গ্রহণ মাত্র ৪.২ শতাংশ।
এলাকাভিত্তিক কর্মজীবী নারীদের হিসেবে রংপুর বিভাগে সর্বোচ্চ ৩৬ শতাংশ নারী কাজ করেন এবং ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগে সর্বনিম্ন ৮ শতাংশ নারী কাজ করেন। দেশের বরিশাল, চট্টগ্রাম, ঢাকা,সাতক্ষীরা, জামালপুর, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, রংপুর ও সুনামগঞ্জের ৮৫০টি কারখানার ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী নারীদের ওপর জরিপ চালিয়ে এ গবেষণা প্রবন্ধে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
অর্থনীতিতে নারীর মর্যাদাপূর্ণ অংশ গ্রহণ বাড়াতে সানেমে সুপারিশে বলা হয়েছে, করোনা পরিস্থিতিতে স্কুল থেকে ঝরে পড়ার হার কমাতে বৃত্তি প্রদান, প্রজনন স্বাস্থ্য, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা রোধ, নারীর ক্ষমতায়ন ইত্যাদি বিষয়গুলোর ব্যাপারে আরো সংবেদনশীল পাঠ্যক্রম প্রণয়ন প্রয়োজন। এ ছাড়া উন্নয়ন সহযোগী বা দাতা সংস্থাগুলোর বিভিন্ন প্রকল্পে নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা এবং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন বিষয়ে পুরুষের সংবেদনশীলতার বিষয়টি থাকতে হবে। বেসরকারি খাত সবচেয়ে সাপ্লাই চেইনে নারীদের সংযোজন করে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, ‘অর্থনীতিতে নারীর অংশ গ্রহণ বাড়াতে হলে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে।’###