এক্সিকিউটিভ কমিটি অব ন্যাশনাল ইকোনমি কাউন্সিল এর নির্দেশনা

বর্জ্য সংরক্ষণ-ব্যবস্থাপনায় রাউজান পৌরসভার কৌশল অনুসরণ করবে অন্যান্য পৌরসভা

  |  রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২২ |  ১০:১৫ অপরাহ্ণ
       

সুন্দর স্বাস্থ্য সম্মত পরিবেশ রক্ষায় রাউজান পৌরসভার অপঁচশীল বর্জ্য সংগ্রহ কর্মসূচি দেশ জুড়ে সর্বমহলে প্রশংসিত হওয়ার পর এই কৌশল অনুসরণ করার জন্য দেশের উন্নয়ন প্রকল্পের আওতাভুক্ত পৌরসভা সমুহকে নিদেশনা দিচ্ছে সরকারি সংস্থা সমূহ। সম্প্রতি এক্সিকিউটিভ কমিটি অব ন্যাশনাল ইকোনমি কাউন্সিল এর এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

ইতিমধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে পৌরসভা সমূহকে রাউজান পৌরসভার বর্জ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনার কৌশল অনুসরণ করতে নিদেশনা দিয়ে অফিসিয়াল স্মারকমুলে চিঠি দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায় ইতিপূর্ব পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভাগীয় পর্যায়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে রাউজান পৌরসভার মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ অঁপচনশীল বর্জ্য সংগ্রহ কর্মসূচির প্রশংসা করে এই কর্মসূচি দেশের অন্যান্য পৌরসভায় অর্ন্তভুক্ত করে বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছিলেন।

রাউজান পৌরসভা সূত্রে জানা যায় চলতি মাসে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ এক স্মরকমূলে জারি করা চিঠিতে বলেছেন তৃতীয় নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নতিকরণ (পৌর) প্রকল্পের আওতায় যেসব পৌরসভায় অর্ন্তভুক্ত আছে সেসব পৌরসভায় রাউজান পৌরসভায় নেয়া চলমান বর্জ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনার কৌশল গ্রহন করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। চিঠিতে রাউজান পৌরসভার বর্জ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা কৌশল অনুসরণ করার জন্য অন্যান্য প্রকল্পভুক্ত পৌরসভাকে নিদেশনা দেয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত প্রায় এক বছর আগে রাউজান পৌরসভার মেয়র জমির উদ্দিন পারভেজ এলাকার সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর পরামর্শে পৌরসভাকে পরিবেশবান্ধব,পরিচ্ছন্ন রাখার কর্মসূচি নিয়েছিলেন। এমপি ফজলে করিম চৌধুরী প্রায় প্রতিমাসে বর্জ্য কেনার হাটে উপস্থিত থেকে বর্জ্য সংগ্রহকারী ও ক্রেতা পৌর মেয়রকে একাজে অনুপ্রেরণা দিয়ে আসছেন। মেয়র একাজকে চলমান রেখে সারাদেশে প্রশংসিত হচ্ছেন। জমির উদ্দিন পারভেজ বলেছেন তার পৌরসভাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রেখে নাগরিকদের জন্য সুন্দর, স্বাস্থ্য সম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে এই আন্দোলন চলমান রেখেছেন।

রাউজানের এই কর্মসূচির আওতায় ভাসমান মানুষ ও টোকাইদের কাছ থেকে প্রতিবস্তা অপঁচনশীল বর্জ্য এক’শ টাকা দিয়ে কিনে নিচ্ছেন। এতে শত শত ভাসমান ও টোকাই শ্রেণির গরীব মানুষ অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হচ্ছে। বলেছেন পরিচ্ছন্ন উপশহর গড়ার এই কর্মসূচি সর্বসাধারণের মাঝে ছড়িয়ে দিতে প্রায় প্রতিদিন জনসচেতনতামূলক সভা সমাবেশ করা হচ্ছে। উদ্বুদ্ধ হয়ে এই কাজে সম্পৃক্ত হয়েছেন স্কাউট,গাল্স গাইড, শিক্ষার্থী, সামাজিক সংগঠন সমূহে জড়িতরা। জানা যায়, এই পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার বস্তা বর্জ্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। সংগ্রহকরা প্লাস্টিক, পলিথিনের মত অঁচপনশীল বর্জ্য রিসাইকেলিং করে প্লাষ্টিক সরঞ্জাম উৎপাদন ও পঁচনশীল বর্জ্য থেকে জৈব সার, হাঁস মুরগি ও মাছের খাদ্য উৎপাদনের প্রকল্প হাতে নিয়েছে পৌরসভা। মেয়রের আশা এসব প্রকল্পের মাধ্যমে পৌরসভা ও এলাকার মানুষ অর্থনৈতিক ভাবে সমৃদ্ধ হবে।

ইমা