কোটি টাকা মেরে লাপাত্তা, ৬ বছর পর গ্রেফতার

 নিজস্ব প্রতিবেদক |  বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২২ |  ৮:৫৪ অপরাহ্ণ
       

দিদার মার্কেট এলাকায় একটি বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছ থেকে কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন দুই ভাই। পরে ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় ভবনের ৮ তলা পর্যন্ত নির্মাণ করে লাপাত্তা হয়ে যান তারা। অবশেষে প্রায় ৬ বছর পর সেই দুইভাইকে গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।

গ্রেফতার দুই ভাই হলেন- মো. মাজাহার ইকবাল খান (৫০) ও মো. জাফর ইকবাল খান (৪০)। তারা নগরীর সিরাজুদ্দৌলা রোডের ‘ইকবাল সুইটস’-এর স্বত্ত্বাধিকারী।

বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে গাজীপুরের গাঁছা থানার বটতলী এলাকা থেকে ছোট ভাই মো. জাফর ইকবাল খানকে গ্রেফতার করা হয়।

পরে তার দেয়া তথ্যমতে, অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) ভোরে কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের জোড় পুকুরপাড় এলাকা থেকে বড় ভাই মো. মাজাহার ইকবাল খানকে গ্রেফতার করে কোতোয়ালী থানা পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তাদের বাবা হাজী মোহাম্মদ ইকবাল খানের মৃত্যুর পর তার রেখে যাওয়া দিদার মার্কেটের বিপরীতে জায়গাটিতে একটি ১০ তলা বিল্ডিং নির্মাণ করার জন্য বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও লোকজনের কাছ থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা ঋণ নেন দুই ভাই। ৮ম তলা পর্যন্ত ভবন নিমার্ণের পর তারা কাজ বন্ধ করে দেন। এরপর দুই ভাই চট্টগ্রাম থেকে পালিয়ে যান।

চট্টগ্রাম থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর মাজাহার ইকবাল খান কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোর্ট থানার জোড় পুকুরিয়া গ্রামে আত্মগোপন করে সেখানে একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা শুরু করেন। তার ছোট ভাই জাফর ইকবাল খান গাজীপুরের মেট্রিক্স স্টাইলস লি. কোম্পানিতে একাউন্টস অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তারা গ্রেফতারি পরোয়ানা এড়াতেই দীর্ঘ ছয় বছর আত্মগোপনে ছিলেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবীর বলেন, ভবন নির্মাণের কথা বলে দুই ভাই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান-ব্যক্তি থেকে কোটি টাকার উপরে ঋণ নিয়েছিলেন। পরে তা পরিশোধ করতে না পেরে ভবনের কাজ শেষ না করেই তারা আত্মগোপন করেন। ৬ বছর পর গোপন সূত্রের ভিত্তিতে গাজীপুর থেকে ছোট ভাই জাফর ও তার তথ্যমতে বড়ভাই মাজহারকে কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি আরও বলেন, জাফর ইকবাল খানের বিরুদ্ধে ৭টি সাজা ও ৬টি গ্রেফতারি পরোয়ানাসহ মোট ১৩টি এবং মাজাহার ইকবাল খানের বিরুদ্ধে ১৩টি সাজা ও ৬টি গ্রেফতারি পরোয়ানাসহ মোট ১৯টি মামলা রয়েছে।

ইউডি