আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে জাতিসংঘ পার্ক

জানুয়ারিতে শুরু হচ্ছে প্রকল্পের কাজ

 উজ্জ্বল দত্ত |  রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২২ |  ৮:৩৮ অপরাহ্ণ
       

নগরীর পাঁচলাইশ এলাকায় অবস্থিত জাতিসংঘ পার্কের উন্নয়নে গণপূর্ত অধিদপ্তরের গৃহিত প্রকল্পটি অবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। ‘পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকায় আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন জাতিসংঘ সবুজ উদ্যান উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ কোটি ৭০ লাখ ১২ হাজার টাকা। ইতিমধ্যে প্রকল্পের জন্য দরপত্র আহবান করা হয়েছে। আগামী বছর জানুয়ারিতে প্রকল্পের কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছে গণপূর্ত অধিদপ্তর।

বিষয়টি নিশ্চিত করে গণপূর্ত অধিদপ্তর চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী (বিভাগ-১) রাহুল গুহ স্লোগান নিউজকে বলেন, জাতিসংঘ পার্কের উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের জন্য টেন্ডার দেয়া হয়েছে। এ বছর ডিসেম্বর অথবা ২০২৩’র জানুয়ারিতে আমরা কাজ শুরু করব। ইতিমধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এখন শুধু কাজ শুরুর অপেক্ষা। প্রকল্পের নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে।

গণপূর্ত অধিদপ্তর চট্টগ্রাম সূত্রে জানা গেছে,পার্কের সবুজ উদ্যান উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পার্কে মনোমুগ্ধকর সবুজায়ন করা হবে। বাইরে থেকেও পার্কের সৌন্দর্য অবলোকন করা যায় সেজন্য চারপাশে লোহার গ্রিল দিয়ে সীমানা দেয়াল দেয়া হবে। নির্মাণ করা হবে ওয়াকওয়ে। দর্শনার্থীদের বসার জন্য থাকবে বেঞ্চ। পার্কের কেন্দ্রে ঝর্ণা থাকবে। আলোকায়নের ব্যবস্থা করা হবে। টয়লেট জোন থাকবে। পার্কের জলাবদ্ধতা নিরসনে পাঁচ ফুট উচ্চতার ভূমি উন্নয়ন করা হবে। পার্কে শিশুদের জন্য কিডস জোন করা হবে। খেলাধূলার সরঞ্জাম থাকবে এবং শরীর চর্চার জন্য হরাইজন্টাল বার (অনুভূমিক বার) স্থাপন করা হবে। পার্কে লোহা দিয়ে দুইটি পারগোলা (বীথিকুঞ্জ দিয়ে আচ্ছাদিত) নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্পের আওতায় দুই কোটি ৪৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকায় বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করা হবে। অফিস, দোকান ও টিকেট কাউন্টারসহ প্রবেশ গেইট নির্মাণ করা হবে এক কোটি ৪০ লাখ টাকায়। দুই কোটি ১৯ লাখ টাকায় দুই হাজার ৯৪০ বর্গমিটার ওয়াকওয়ে, ৩৫ লাখ টাকায় ৪৪টি আরসিসি বসার সিট এবং ৩০ লাখ টাকায় ৮ হাজার ৩৩ ঘনমিটার মাটি দিয়ে পার্কের ভূমির উন্নয়ন করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এই প্রকল্পের জন্য ১২ কোটি ১২ লাখ টাকার প্রস্তাবিত ব্যয় বাজেট নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে ১১ কোটি ৭০ লাখ টাকা ১২ হাজার টাকা ব্যয় বাজেট চুড়ান্ত করে প্রকল্প অনুমোদন দেয় পরিকল্পনা কমিশন। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২২ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত।

তবে এই প্রকল্পের আওতায় জিমনেশিয়াম ও সুইমিং পুল দুইটি ভেঙ্গে ফেলা হবে। জাতিসংঘ পার্কের মোট আয়তন ২ দশমিক ১৭ একরের মধ্যে শূন্য দশমিক ৯ একর জায়গার উপর দুটি সুইমিং পুল ও একটি জিমনেসিয়াম নির্মাণ করেছিল চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। সুইমিং পুলগুলো প্রতিটি ১২০ ফুট লম্বা এবং ৫০ ফুট চওড়া। গভীরতা ৮ থেকে সাড়ে ৮ ফুট। অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত এই স্থাপনাগুলো নিয়ে নানা মহলের নানামুখী দেনদরবারের কারণে দীর্ঘ ৭ বছর ধরেই সেগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। চার পাঁচ বছর আগে সুইমিং পুলে শুধু একবার সাঁতার প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলে জানা যায়।

অথচ ২০১২ সালে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে জাতিসংঘ পার্কে ২টি সুইমিং পুল ও জিমনেসিয়াম নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছিল। ২০১৫ সালের জুন মাসে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়।

এই ব্যাপারে গণপূর্ত অধিদপ্তর চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী (বিভাগ-১) রাহুল গুহ স্লোগান নিউজকে বলেন, পার্কের উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় অপরিকল্পিত সুইমিং পুলগুলো ভেঙে ফেলা হবে। এগুলোর মালিক যেহেতু সিটি কর্পোরেশন তাই চসিককে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আশা করি চসিক দ্রুত সময়ের মধ্যে সেগুলো তারা ভাঙ্গার কাজ শুরু করবে।