চট্টগ্রামে মাসব্যাপি ‘আলট্রামেরিন এওয়ার্ড এক্সিবিশন’ শুরু

বহুমাত্রিক গুণে অমর হয়ে থাকবেন শিল্পী মুতর্জা বশীর : সাংসদ ওয়াসিকা

 নিজস্ব প্রতিবেদক |  শনিবার, আগস্ট ২১, ২০২১ |  ১:০২ অপরাহ্ণ
       

চট্টগ্রামে মৃন্ময় আর্ট গ্যালারীতে ২০ অগাস্ট শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে মাসব্যাপি ‘আলট্রামেরিন এওয়ার্ড এক্সিবিশন’।
নগরের মৃন্ময় আর্ট গ্যালারীত প্রধান অতিথি হিসাবে এক্সিবিশন উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওয়াসিকা আয়শা খান এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন আলট্রামেরিনের পরিচালক, ঢাকা ব্যাংকের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ও শিল্পী তনয়া মুনিজা বশীর। আরো উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা ইন্সটিটিউটের পরিচালক শিল্পী প্রণব মিত্র চৌধুরী, প্রাবন্ধিক ও ব্যাংকার কায়েস চৌধুরী, বিস্তার চিটাগং আর্ট কমপ্লেক্সের প্রতিষ্ঠাতা, লেখক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আলম খোরশেদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মৃন্ময় আর্ট গ্যালারির পরিচালক ও ভাস্কর সামিনা এম. করিম।

প্রধান অতিথি ওয়াসিকা আয়েশা খান শিল্পী মুর্তজা বশীর ও তাঁর সহধর্মিনী আমিনা বশীরের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, শিল্পী মুতর্জা বশীর তাঁর চিত্রকর্ম ও বহুমাত্রিক গুণের জন্য অমর হয়ে থাকবেন। তিনি শিল্পীর ৬০-এর দশকে আঁকা বিভিন্ন চিত্রকর্ম ও প্রজাপতির পাখা সিরিজের ভূয়সী প্রশংসা করেন। শিল্পী তনয়া মুনিজা বশীরের শৈশবের বন্ধু ওয়াসিকা আয়শা খান শৈশবের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, শুধুমাত্র স্নেহের কারণে শিল্পী একবার তাঁদের স্কুলের পুর্নমিলনী অনুষ্ঠানের জন্য লোগো ডিজাইন করে দিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, শিল্পী মুর্তজা বশীর সবসময় বলতেন, যে কোনো মানুষের পরম বন্ধু সে নিজেই, এই দৃষ্টি ভঙ্গি থেকেই তিনি প্রচুর সেল্ফ পোট্রেট এঁকেছেন।

বিশেষ অতিথি মুনিজা বশীর বলেন, ‘আলট্রামেরিন’ তাঁর বাবা শিল্পী মুর্তজা বশীর ও মা আমিনা বশীরের স্মৃতি রক্ষার্থে একটি ক্ষুদ্র প্রয়াস, যার মূল উদ্দেশ্য হলো বিভিন্ন জনহিতকর কাজে অংশগ্রহণ করা। আমাদের দেশের শিল্প সংস্কৃতির সমৃদ্ধির জন্য আলট্রামেরিন ভুমিকা রাখবে বলে তিনি জানান।

মুর্তজা বশীরকে বাংলাদেশের আধুনিক চিত্রকলা জগতের পথিকৃৎ উল্লেখ করে প্রণব মিত্র চৌধুরী বলেন, শক্তিশালী ড্রইং, রঙের সুমিত ব্যবহার এবং সামাজিক অঙ্গীকার মুর্তজা বশীরকে দিয়েছে স্বাতন্ত্র্য। তাঁর অনুসন্ধিৎসু শিল্পচর্চা পরীক্ষা নিরীক্ষার পথ ধরে অগ্রসর হয়েছে।

প্রবান্ধিক কায়েস চৌধুরী বলেন, পরম শ্রদ্ধেয় মুর্তজা বশীরের জীবনে যে বহুমাত্রিক সৃজনশীলতা, তার মূলে রয়েছে জন্মগত প্রতিভা, উত্তরাধিকার, নিরলস অনুশীলন এবং রেনেসাঁর ঐতিহ্যের প্রভাব।

মুর্তজা বশীরের আলট্রামেরিন উপন্যাসকে বাংলা সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ উল্লেখ করে আলম খোরশেদ বলেন, শিল্প, সাহিত্য, রাজনীতি সব বিষয়ে অসম্ভব দখল ছিলো তাঁর। তিনি ভাষা আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রগতিশীল আন্দোলনে সক্রিয় অংশ নিয়েছেন।

উল্লখ্য, আলট্রামেরীন আর্ট এক্সিবিশনের বিচারক প্রথিতযশা শিল্পী গৌতম চক্রবর্তী এবং শিল্পী জামাল আহমেদ। এই এক্সিবিশনে থাকছে দেশী-বিদেশী বাহান্ন জন শিল্পীর চিত্রকর্ম। এক্সিবিশনে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি শিল্পীর জন্য থাকছে সাটিফিকেট এবং বিজয়ী শিল্পীর জন্য থাকছে সাটিফিকেট, ক্রেস্ট ও নগদ পুরস্কার। বেস্ট এওয়ার্ড পেলেন দুই জন, শিল্পী আবদুল্লাহ আল বশির শিরোনাম (লকডাউন) ও শিল্পী আশরাফুল হাসান শিরোনাম (সবুজের চিতা)।

মৃন্ময় আর্ট গ্যালারীর কর্ণধার সামিনা এম. করিম জানান, এক মাস ব্যাপী এই এক্সিবিশন চলবে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১ পর্যন্ত। কোভিড পরিস্থিতিতেও মৃন্ময় আর্ট গ্যালারি উপুর্যুপরি বেশ কয়েকটি অনলাইন এক্সিবিশন করে চিত্রশিল্পীদের পাশে আছে। সংগ্রাহকগণ বেশ কিছু শিল্পকর্ম সংগ্রহ করেছেন। এ থেকে প্রাপ্ত অর্থ একদিকে যেমন শিল্পীরা পেয়েছেন এবং তেমনি অন্যদিকে কিছু অংশ দিয়ে কোভিড ভিকটিম পরিবারদের সহায়তা করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আলট্রামেরিন এওয়ার্ড এক্সিবিশনে বিক্রয়কৃত শিল্পকর্ম থেকে প্রাপ্ত অর্থের কিছু অংশ কোভিড আক্রান্ত পরিবারদের সহায়তায় প্রদান করা হবে।