নগরীতে ৪৮ ঘন্টায় ৩ নারীর আত্মহত্যা!

 বশির আলমামুন |  বুধবার, আগস্ট ১৮, ২০২১ |  ৮:৫৩ অপরাহ্ণ
       

চট্টগ্রাম নগরীতে গত ৪৮ ঘন্টায় তিনটি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনা তিনটিই ঘটেছে পারিবারিক অভিমানে। এর মধ্যে ১৭ আগস্ট (মঙ্গলবার) আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে দুটি। ওই দিন ভোরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন পতেঙ্গার মুসলিমাবাদ এলাকার কলেজ ছাত্রী সঙ্গীতা দে (১৮) এর পর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আত্মহত্যা করেন বন্দর থানার মাইলেরমাথা কমিশনার গলির হাজী বিল্ডিংয়ে গার্মেন্টস কর্মী মাধবী রাণী শীল (২৯)। মাধবী রাণী শীল চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার অরুণ্য শীলের স্ত্রী। এর একদিন আগে সোমবার নন্দনকানন এলাকায় দিপ্রিতা প্রাচী তিসি (২২) নামে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী আত্মহত্যা করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত দুইদিনে ঘটে যাওয়া তিনটি আত্মহত্যার ঘটনা ও প্রকৃতি একই। তিনজনই আত্মহত্যা করেছে ফ্যানের সাথে ঝুলে এবং পারিবারের সাথে অভিমান করে। ইতোমধ্যে গার্মেন্টস কর্মী মাধবী রাণী শীল আত্মহত্যার মামলায় তার স্বামী অরুণ্য শীলকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। আত্মহত্যা প্ররোচনার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
বিশ্ববিদ্যালয় তিসি ও কলেজ পড়ুয়া সঙ্গীতা দে-দুইজনের আত্মহত্যার করাণ হিসেবে পরিবারের সাথে অভিমানের কথা বলা হলেও সঙ্গিতা দে’র ক্ষেত্রে ভিন্ন কথা বলছে সূত্র। সরেজমিনে পতেঙ্গায় গিয়ে জানা গেছে, পরিবারের সাথে অভিমান করে মানসিক অশান্তিতে আত্মহত্যা করেছে কলেজ ছাত্রী সঙ্গীতা দে।
খোঁজ নিয়ে যানা গেছে, আত্মহত্যার আগে সঙ্গিতার পরিবার বিষয়টি আঁচ করতে পেরেছেন বলে বাসার পাশের দোকানগুলোতে সঙ্গিতার কাছে ব্লেড বিক্রি করতে নিষেধ করেছিলেন। তবুও সঙ্গিতাকে বাঁচাতে পারে নি তার পরিবার। শেষ রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে আত্মহত্যা করে সে।
পুলিশ জানায়, আত্মহত্যার পর পুলিশকে না জানিয়ে গোপনে সঙ্গিতা দে’র লাশ শ্বশান ঘাটে নেয়ার চেষ্টা করেছিল তার পরিবার। পুলিশ গেলেও নানা বিভ্রান্তকর তথ্য দেয় তার পরিবার। একবার বলেন করোনা আক্রান্ত ছিলেন, আবার বলেন হার্ট অ্যাটাক করে মারা গেছেন সঙ্গিতা। পরে পুলিশ নিহতের গলায় দাগ কেন? জানতে চাইলে ফাঁসিতে ঝুলার বিষয়টি স্বীকার করেন তারা।
পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জোবায়ের সৈয়দ বলেন, সকালে খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। পরিবারের সাথে অভিমান করে আত্মহত্যা করেছে বলে পরিবার দাবি করছে।