চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য খালাসের পদক্ষেপ চায় বিজিএমইএ

 নিজস্ব প্রতিবেদক |  মঙ্গলবার, আগস্ট ১৭, ২০২১ |  ৬:২৯ অপরাহ্ণ
       

চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাস কার্যক্রম দ্রুত করতে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। শিল্পকে অতিরিক্ত খরচের কবল থেকে রক্ষা করতে বেসরকারি আইসিডি’র পরিবর্তে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য খালাসের পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়াল এডমিরাল এম. শাহজাহানের সঙ্গে তার চট্টগ্রামস্থ কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান এ আনুরোধ জানান।
বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘বিশ্বের নানা দেশ থেকে আমদানি করা কাঁচামালবাহী কন্টেইনার বন্দরের ইয়ার্ড থেকে খালাস করতে পোশাক মালিকদের আগে সময় লাগতো দুই দিন। বর্তমানে বেসরকারি আইসিডিগুলো থেকে সেই কন্টেইনার খালাস করতে সময় লাগছে ছয় থেকে সাত দিন। পণ্য খালাসের দেরির কারণে পোশাক উদ্যোক্তাদেরকে আর্থিক মাশুল দিতে হচ্ছে। আবার বেসরকারি আইসিডি’তে প্রতি কন্টেইনারের জন্য যে পরিমাণ অর্থ আদায় করা হচ্ছে, তার বন্দরের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি। এতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে বাড়তি ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। পোশাক শিল্প যখন কোভিড-১৯ মাহামারির প্রভাব কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর সংগ্রামে লিপ্ত, তখন চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি পণ্য খালাসে এই অতিরিক্ত সময়ক্ষেপণ ও বাড়তি চার্জ আদায় শিল্পের স্বাভাবিক গতিকে ব্যাহত করছে।’
ফারুক হাসান বলেন, ‘আসন্ন মাসগুলোতে পোশাক রফতানি আরও বাড়বে বলে আমরা প্রত্যাশা করছি। এই বিষয়টিকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম বন্দরের সামর্থ্য বাড়ানোর বিষয়ে একটি যথাযথ পরিকল্পনা প্রণয়ন করে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।’
বিজিএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম কোভিড-১৯ মহামারিকালীন বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দায় আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের প্রতিযোগী সক্ষমতা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম দ্রুততার সঙ্গে শেষ করার জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানান।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়াল এডমিরাল এম. শাহজাহান বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পোশাক শিল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। রফতানি প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমদানি-রফতানি সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম দ্রুততার সঙ্গে সম্পাদন করছে।’
সভায় তিনি বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এ লক্ষ্যে বিজিএমইএ-সহ সকল স্টেক-হোল্ডারদের সহযোগিতা কামনা করেন।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি রাকিবুল আলম চৌধুরী, পরিচালক তানভীর আহমেদ, আব্দুল্লাহ হিল রাকিব, হারুন অর রশিদ, নাভিদুল হক, রাজীব চৌধুরী, মো. ইমরানুর রহমান, মো. এম. মহিউদ্দিন চৌধুরী, মোহাম্মদ আবদুস সালাম, তানভির হাবিব, এ.এম. শফিউল করিম (খোকন), মো. হাসান (জ্যাকি), এম, এহসানুল হক, মোহাম্মদ মিরাজ-ই-মোস্তফা (কায়সার), সাবেক ১ম সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক ১ম সহ-সভাপতি মঈন উদ্দিন আহমেদ (মিন্টু), সাবেক পরিচালক ও কাস্টমস (সমুদ্র) বিষয়ক বিজিএমইএ’র স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান অঞ্জন শেখর দাশ, সাবেক পরিচালক ও কাস্টম (বন্ড) বিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।