১৭ আগস্ট : দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার ১৬ বছর আজ

 স্লোগান ডেস্ক |  মঙ্গলবার, আগস্ট ১৭, ২০২১ |  ২:৪২ অপরাহ্ণ
       

দেশের ৬৩ জেলায় একযোগে জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) পরিকল্পিত সিরিজ বোমা হামলার ১৬ বছর পূর্তি আজ। ২০০৫ সালের এইদিনে বেলা ১১টার দিকে মুন্সীগঞ্জ ছাড়া সব জেলায় প্রায় ৫০০ পয়েন্টে একযোগে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে চরম ঔদ্ধত্যে শক্তিমত্তা জানান দিয়েছিল জঙ্গিরা।
বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বড় ঘটনা। ওই হামলায় দুই জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছিলেন। এই ঘটনার পর নড়ে চড়ে বসে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার। নানামুখী চাপের কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও শুরু করে সাঁড়াশি অভিযান। একে একে গ্রেপ্তার করা হয় জেএমবির শীর্ষ নেতাদের। কিন্তু কীভাবে একযোগে দেশজুড়ে হামলার প্রস্তুতি নিয়েছিল এই জঙ্গি সংগঠনটি? আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকাই বা তখন কেমন ছিল?

পুলিশ কর্মকর্তা, র‌্যাব, বিশ্লেষক ও জঙ্গিবাদ পর্যবেক্ষণের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ২০০৫ সালের আগে থেকেই জঙ্গিরা নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে তাদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছিল। কিন্তু বিষয়টি ততোটা গুরুত্বের সঙ্গে নেয়া হয়নি সেসময় এবং জঙ্গিদের বিরুদ্ধেও কঠোর কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদেরও ছিল গা-ছাড়া ভাব। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই মূলত সারাদেশে একযোগে হামলার পরিকল্পনা করেছিল জেএমবি বা জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ।
বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বড় ঘটনা। ওই হামলায় দুই জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছিলেন। এই ঘটনার পর নড়ে চড়ে বসে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার। নানামুখী চাপের কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও শুরু করে সাঁড়াশি অভিযান। একে একে গ্রেপ্তার করা হয় জেএমবির শীর্ষ নেতাদের। কিন্তু কীভাবে একযোগে দেশজুড়ে হামলার প্রস্তুতি নিয়েছিল এই জঙ্গি সংগঠনটি? আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকাই বা তখন কেমন ছিল?

পুলিশ কর্মকর্তা, র‌্যাব, বিশ্লেষক ও জঙ্গিবাদ পর্যবেক্ষণের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ২০০৫ সালের আগে থেকেই জঙ্গিরা নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে তাদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছিল। কিন্তু বিষয়টি ততোটা গুরুত্বের সঙ্গে নেয়া হয়নি সেসময় এবং জঙ্গিদের বিরুদ্ধেও কঠোর কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদেরও ছিল গা-ছাড়া ভাব। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই মূলত সারাদেশে একযোগে হামলার পরিকল্পনা করেছিল জেএমবি বা জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ।
র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, ১৭ই আগষ্টে সারাদেশ ব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় জড়িত ৬৭ জন আসামীকে র‌্যাব গ্রেপ্তার করেছে। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে র‌্যাব এ পর্যন্ত শুধুমাত্র ১,৩৭৩ জন জেএমবি সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠনের সর্বমোট দুই হাজার ৬০০ জন জঙ্গি নেতা ও কর্মীদেরকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

এসব গ্রেপ্তার জঙ্গি সদস্যদের কাছ থেকে এ পর্যন্ত সর্বমোট ৪৫০ ধরনের গ্রেনেড/ককটেল, ১৩৯টি বিভিন্ন প্রকার অস্ত্র, পাচ হাজার ৪০৪ রাউন্ড বিভিন্ন প্রকারের গোলাবারুদ, ২৮১২.৩ কেজি বিভিন্ন প্রকারের বিস্ফোরক, ৬৩২টি গ্রেনেড বডি, ৯২২৪টি বিভিন্ন প্রকারের ডেটোনেটর এবং বিপুল সংখ্যক সাংগঠনিক এবং জিহাদি বই/সিডি/লিফলেট/পোষ্টার উদ্ধার করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের ওই বোমা হামলার ঘটনায় ৬৩টি জেলায় ১৬১টি মামলা হয়। ওই বছরের ১৪ই নভেম্বর ঝালকাঠিতে জঙ্গিদের বোমা হামলায় দুইজন বিচারক নিহত হওয়ার মামলায় পরবর্তীতে জেএমবির শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

সেই মামলাতেই ২০০৬ সালের ৬ই মার্চ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আদালত। ২০০৬ সালের ১৬ই অক্টোবর এদের একজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করা হয়। এছাড়া জেএমবির আমীর শায়খ আব্দুর রহমান,দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা মো. সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাই এবং খালেদ সাইফুল্লাহ ও আতাউর রহমান সানীর মতো শুরা সদস্যদের ফাঁসির আদেশ ইতোমধ্যে কার্যকর করা হয়েছে।