বিধিনিষেধ শেষে চিরচেনা রূপে চট্টগ্রাম নগর

  নিজস্ব প্রতিবেদক |  বুধবার, আগস্ট ১১, ২০২১ |  ১১:১৪ অপরাহ্ণ
       

১৯ দিনের কড়া লকডাউন শেষে চিরচেনা রূপে ফিরতে শুরু করেছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। যান্ত্রিক কোলাহল আর মানুষের আনাগোনায় চট্টগ্রাম আবারও ব্যস্ত নগরী হয়ে উঠেছে। আজ বুধবার প্রথম দিনেই নগরীর বিভিন্ন স্থানে সড়কে রীতিমতো যানজট দেখা যায়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাস্তাঘাট ও হাটবাজারে সাধারণ মানুষের ভিড় ছিল বেশ। সরকারি-বেসরকারি অফিস আদালতেও উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।
নগরের আগ্রাবাদ, টাইগারপাস, লালখানবাজার, জিইসি, নিউমার্কেটসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ঘুরে দেখা যায়, লকডাউন শেষে প্রাণ সঞ্চার হয়েছে নগরের সকল প্রান্তে। ব্যবসায়ীরা আবারো দোকান খুলে বসেছেন। মেতে উঠেছেন খোস গল্পে, চলছে লোকসানের আলোচনা। ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের হাঁকডাকে মুখরিত হয়ে উঠেছে নিউমার্কেট এলাকা। তামাকুমÐি ও টেরিবাজারে হয়েছে ক্রেতা সমাগম। সকাল থেকেই প্রথাগত নিয়মে গণপরিবহণের পেছনেই ছুঁটেছেন অফিসগামী ও গার্মেন্টসমুখী কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকরা। ধাক্কাধাক্কি করে গাড়িতে ওঠার পাশাপাশি বাড়তি ভাড়া আদায় নিয়ে বাগবিতÐার চিত্রও চোখে পড়েছে। সেই সাথে মাস্ক পরার অনীহা দেখা গেছে বাস চালক ও সহযোগীদের মধ্যে। অনেক যাত্রীও ছিলেন অসচেতন। সেই সাথে অধিকাংশ গণপরিবহণে চোখে পড়েনি স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা।
বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করে দেওয়ানহাট মোড়ে এক যাত্রী বলেন, দেওয়ানহাট থেকে জিইসি স্বাভাবিক সময়ে ৬ টাকা নিতো। লকডাউনের পর থেকে ১০ টাকা করে নিচ্ছে। অথচ আজ লকডাউন শিথিল করার পরও ১৫ টাকা নিয়ে নিল। তার উপর গাড়িতে নিয়ম না মেনে অতিরিক্ত লোক তো নিয়েছেই।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি মো. মূছা জানান, দীর্ঘদিন ধরে গণপরিবহণ বন্ধ ছিল। চালক-হেল্পারদের আর্থিক অবস্থা ভালো না। আমরা আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে পরিবহণ সংশ্লিষ্ট সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে ও সার্বক্ষণিক মাস্ক পরার নির্দেশনা দিয়েছি।
অন্যদিকে বড় বড় শপিংমল ও মার্কেটগুলোতেও বেড়েছে ক্রেতাদের আনাগোনা। কেউ মোবাইল, কেউবা জামা-কাপড় আবার কেউবা নিজের প্রয়োজনীয় কেনাকাটা সেরে নিচ্ছেন। তবে শপিংমলগুলোতে ছিল না হ্যান্ডস্যানিটাইজিং ও তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্রের ব্যবস্থা।