ব্যাংকার আত্মহত্যার ঘটনায় আরাফাতের রিমান্ড চায় পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রামে ব্যাংক কর্মকর্তা মোর্শেদ চৌধুরীর আত্বহনন প্ররোচনায় দায়ের করা মামলার আসামী মোহাম্মদ আরফাতকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলার অন্যতম আসামী পারভেজ ইকবালের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন আরাফাত। গত ২৮ এপ্রিল নগরীর বন্দর থানার দক্ষিণ-মধ্যম হালিশহর নিজ বাসা থেকে আরাফাতকে অনেকটা নিরবেই গ্রেফতার করে সিএমপির গোয়েন্দা (উত্তর) বিভাগ। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা (উত্তর) বিভাগের পরিদর্শক মাইনুর রহমান। এদিকে জানাগেছে আরফাত ব্যাংক কর্মকর্তা মোর্শেদকে চোখে চোখে রাখতেন। নানান সময় মোর্শেদকে হুমকিও দিয়েছেন এমন সব তথ্যপ্রমাণ গোয়েন্দা পুলিশের রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আত্মহননকারী ব্যাংকার মোর্শেদের ফুফাতো ভাই পারভেজ ইকবালের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন মোহাম্মদ আরাফাত। বিভিন্ন সময়ে মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে ব্যাংকার মোর্শেদের অফিসে আরাফাতকে বসিয়ে রাখতেন পারভেজ। ইকবালের নির্দেশে অশালীন ভাষায় এসএমএসসহ বিভিন্ন সময় মোর্শেদের বাসায় গিয়ে হুমকিও দিয়েছেন গ্রেফতারকৃত আরাফাত । এমন অভিযোগ ব্যাংকার মোর্শেদের স্ত্রী ইশরাত জাহানের।
তিনি বলেন, মোর্শেদের অফিসে আরাফাতকে বসিয়ে রাখতো পারভেজ ইকবাল। মোবাইলে ফোন করে এবং এসএমএস দিয়ে হুমকিও দিতেন এই আরাফাত। পারভেজ ইকবালের বিভিন্ন অপকর্মে সাহায্য করতো এই ছেলে।
পরিদর্শক মাইনুর রহমান বলেন, মোর্শেদ চৌধুরীর আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় আরাফাতের সম্পৃক্ততা পেয়েছি বলে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেছি। আশা করছি আজকালের মধ্যেই রিমান্ড হয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, আরাফাতের কাছ থেকে জব্দ করা ডিজিটাল ডিভাইসগুলো ফরেন্সিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, আপান ফুফাতো ভাইদের মানসিক ও রাজনৈতিক অত্যাচার, হুমকীর কারণে গত ৬ এপ্রিল দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম নগরীর শিশু একাডেমি সংলগ্ন হিলভিউ আবাসিক এলাকায় ফ্যানের সাথে ফাস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন একটি বেসরকারী ব্যাংকের ম্যানেজর আব্দুল মোর্শেদ চৌধুরী। পরের দিন ৭ এপ্রিল সকালে বাসা থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই দিন রাতে ইশরাত জাহান চৌধুরী বাদী হয়ে চার জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা আরও সাত-আটজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এতে আসামি করা হয় চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক জাবেদ ইকবাল, তাঁর ভাই পারভেজ ইকবাল, নাঈম উদ্দীন সাকিব ও যুবলীগ নেতা শহীদু হক চৌধুরী রাসেল। পরে এই ঘটনায় হুইপপুত্র শারুন চৌধুরী ও যুবলীগ নেতা আরশাদুল আলম বাচ্চুর নামও উল্লেখ করেন ইশরাত জাহান।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের দিকে মোর্শেদের ফুফাতো ভাই পারভেজ ইকবাল ও জাবেদ ইকবাল থেকে ১২ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং সাকিব ও মইনউদ্দিনের কাছ থেকে ১২ কোটি ৬০ লাখ ১৫ হাজার ধার নেন মোর্শেদ।

আপনার ভালো লাগতে পারে এমন আরো কিছু খবর