চট্টগ্রাম নগরী থেকে ২০টি চোরাই মোটর সাইকেল উদ্ধার: গ্রেফতার ৯

নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম নগরীতে অভিযান চালিয়ে ২০টি চোরাই মোটর সাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসময় চোর চক্রের নয় সদস্যকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সড়কে চেকপোস্টে নম্বরবিহীন একটি মোটরসাইকেল তল্লাশির সূত্র ধরে পাওয়া গেছে দুর্র্ধষ এই চোর চক্রের সন্ধান, যা সিএমপিতে এ যাবৎকালে প্রথম। শুক্রবার (২৬ মার্চ) রাত পর্যন্ত টানা ২৪ ঘণ্টা চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও খাগড়াছড়িতে অভিযান চালিয়ে কোতোয়ালী থানা পুলিশ নয় জনকে আটকের পাশাপাশি মোটরসাইকেলগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতার নয় জন হলেন- মিল্টন সরকার (৪৪), মেহদী হাসান (১৯), আনোয়ারুল ইসলাম (১৯), রফিকুল ইসলাম রিপন (৩৮), ওবায়দুল কাদের (৪২), মাহমুদুল হাসান (২৪), মো. শাখাওয়াত হোসেন ওরফে রুবেল হোসেন (২৫), শাহাদাত হোসেন সাজ্জাদ (২৭) ও মো. রিয়াজ (৩২)।
নগর পুলিশের কোতোয়ালী জোনের সহকারী কমিশনার নোবেল চাকমা ‘গত বৃহস্পতিবার রাতে কদমতলী আটমার্সিং মোড়ে চেকপোস্টে নম্বরবিহীন একটি মোটরসাইকেল থামানো হয়। মোটরসাইকেলের আরোহী মিল্টন ও মেহেদী কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। আমরা তাদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করি। তাদের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে আমরা একে একে আরও সাতজনকে আটক করি এবং মেটার সাইকেলগুলো উদ্ধার করি। একই চক্রে আরও কয়েকজন আছে। এত বড় চক্র সাম্প্রতিক সময়ে সিএমপিতে আটক হয়নি।’
কোতোয়ালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আইয়ূব উদ্দিন জানান, মিল্টন ও মেহেদীকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কদমতলী থেকে আরও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে সীতাকু- উপজেলার বড় দারোগাহাটে ওবায়দুল কাদেরের গ্যারেজে অভিযান চালিয়ে আনোয়ার ও ওবায়দুলকে বিভিন্ন ধরনের আরও আটটি মোটরসাইকেলসহ আটক করা হয়।
চার জনকে থানায় নিয়ে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে ফটিকছড়ি উপজেলার ভুজপুর, কুমিল্লার লাঙ্গলকোট, চৌদ্দগ্রাম, খাগড়াছড়ির রামগড় এবং চট্টগ্রাম নগরীর ডবলমুরিংয়ে অভিযান চালিয়ে বাকিদের গ্রেফতার এবং আরও মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সহকারী পুলিশ কমিশনার নোবেল চাকমা জানান, মিল্টন, রফিক ও রিয়াজ মূলত মোটরসাইকেল চোর। মেহেদী ও ওবায়দুল মোটরসাইকেলের কারিগর। আনোয়ারসহ অন্যরা চোরাই মোটরসাইকেল ক্রেতা-বিক্রেতা। বিভিন্ন জেলায় ঘুরে ঘুরে মোটরসাইকেল চুরি করে আনে মিল্টন, রফিক ও রিয়াজ। সীতাকু-ের আনোয়ারের কাছে সেগুলো আট থেকে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে। মেহেদী ও ওবায়দুল নম্বরপ্লেট খুলে সেগুলো বিক্রির উপযোগী করে।চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেছে।

আপনার ভালো লাগতে পারে এমন আরো কিছু খবর