বার বার জেলে গেলেও গাঁজা পাচার ছাড়তে পারেনি চট্টগ্রামের জুলেখা

নিজস্ব প্রতিবেদক
একাধিকবার কারাগারে গেলেও গাঁজা পাচার ছাড়তে পারেনি জুলেখা বেগম (২৬)। গাঁজা পাচার করতে গিয়ে ছেড়েছে নিজের স্বামীকেও। নগরীর স্টেশন রোডে গাঁজা বিক্রির হাতেখড়ি তার। শুরুতে খুচরা  বিক্রি করেছে পুরিয়া হিসেবে। এক পর্যায়ে নেমে পড়েছে পাইকারি গাঁজা পাচারে। যাতায়াত শুরু করে পাচারের অন্যতম রুট কুমিল্লার শশীদলে। স্টেশন রোডে খুচরা গাঁজার চাহিদা থাকলেও পুলিশের নজরদারির কারণে  জুলেখা বাসা নিয়ে থাকতো হালিশহর এলাকায়। জুলেখা ও তার দ্বিতীয় স্বামী আরিফুল ইসলাম দু’জনই  পেশাদার গাঁজা ব্যবসায়ী। এক কেজি বিক্রিতে লাভ প্রায় ১৫ হাজার টাকা। পঞ্চম বারের মতো  দুই কেজি গাঁজাসহ  কোতোয়ালি থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে জুলেখা ও তার সহযোগী মিনু।
সিএমপি’র কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (ওসি) নেজাম উদ্দিন জানান, জুলেখা পেশাদার গাঁজা পাচাকারি। আলো আক্তার নামে একজন মহিলা আছেন  তিনিও গাঁজা পাচারকারি। দু’জনে মিলে কুমিল্লা থেকে গাঁজা এনে নগরীর বিভিন্নস্থানে  বিক্রি করেন। ওসি বলেন,  মাদকের বিরুদ্ধে স্টেশন রোড এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালানো হয়। কিন্তু খুচরা গাঁজা বিক্রেতাদের ধরা খুবই কঠিন। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনতে।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জুলেখা জানিয়েছে, তার নিজ বাড়ি ঢাকার কামরাঙ্গীর চরে। ২০১১ সালের দিকে চট্টগ্রামে আসে। সুমন নামে  এক যুবকের সাথে বিয়ে হয়। সুমন গাড়ি চালক ছিলো। থাকতো বিআরটিসি স্টেশন কলোনিতে। সেখানেই পরিচয় হয় বাদশা নামে একজনের সাথে। বাদশা গাঁজার ব্যবসা করতো। তখন বাদশার হয়ে ছোট ছোট পুরিয়া বানিয়ে  পুরাতন রেলস্টেশনে গাঁজা বিক্রি করতো। প্রতি পুরিয়া গাঁজা ১০ টাকা করে বিক্রি করা হতো।
প্রতিদিন প্রায় ৬ হাজার পুরিয়া গাঁজা বিক্রি করতো। বিনিময়ে দিনে ৩’শ টাকা বেতন পেতো। বেশ ভালা চলছিলো দিনকাল। ২০১২ সালের দিকে গাঁজাসহ পুলিশের হাতে প্রথমবারের মতো ধরা পড়ে। একমাসের মাথায় গাঁজা পাচারকারি বাদশা তাকে জামিনে বের করে। কয়দিন পর ফের ধরা পড়লে জামিনে বের করার বাদশা তাকে আর দলে  ভেড়ায়নি। বাদশার কাছ থেকে ছুটে গিয়ে গাঁজা পাচারকারি রহিমার দলে  ভিড়ে জুলেখা। ২০১৬ সালে ফের  গাঁজা নিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। কয়দিন পর জামিনের বের হয়ে ফের গাঁজা ব্যবসা শুরু করে। দুই তিনমাসের মাথায় আবার ধরা পড়ে জুলেখা।  বার বার পুলিশের হাতে ধরা পড়ায় বাদশার মতো রহিমাও তাকে দল থেকে বের করে দেয়। বার বার পুলিশের হাতে ধরা পড়ায় স্টেশন কলোনির বাসা ছেড়ে দিয়ে হালিশহর বউবাজার এলাকায় বাসা ভাড়া নেয় জুলেখা। এরমধ্যে পরিচয় গাঁজা পাচারকারি আরিফুল ইসলামের সাথে।
জুলেখা বলেছে, আরিফুলের সাথে সম্পর্ক গভীর হলে স্বামী সুমনের সাথে তার ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। আরিফুল আর জুলেখা এক ঘরে থাকা শুরু করে। দু’জনে মিলে কুমিল্লার শশীদল থেকে গাঁজা এনে  হালিশহরের বাসায় রাখে। আরিফুলের সাথে পরিচয়ের পর খুচরা আর নয়, এবার পাইকারি গাঁজা ব্যবসা শুরু করে জুলেখা।
জুলেখা বলেছে, আরিফুল পেশাদার গাঁজা পাচারকারি। কুমিল্লা থেকে পাইকারি গাঁজা কিনে চট্টগ্রামে পাচার করে। ট্রেনে মূলত গাঁজা নিয়ে আসা হয়। আরিফুলের সাথে জুলেখাও কুমিল্লা থেকে গাঁজা আনে। প্রতি কেজি গাঁজা ৬ থেকে ৭ হাজার টাকায় কেনা হয় কুমিল্লা থেকে। চট্টগ্রামে এনে তা বিক্রি করা হয় ২০ থেকে ২২ হাজার টাকায়। এক কেজি গাঁজাতে ১৫ হাজার টাকার মতো লাভ হয় বলে জানায় জুলেখা।


আপনার ভালো লাগতে পারে এমন আরো কিছু খবর